Entertainment

‘বুক কাঁপলো না..’, গর্ভবতী মাহির গ্রেফতারি নিয়ে গর্জন পরীমনি,জয়ার! মিলল

শনিবার মাহিয়া মাহির গ্রেফতারের খবরে সরগরম ওপার বাংলা। এদিন সকালে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরতেই গাজীপুর মহানগর পুলিশ গ্রেফতার করে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অভিনেত্রীকে। পুলিশের তরফে দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার হন মাহি। এরপর দুপুরে তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে তাঁর পুলিশ রিম্যান্ড না-মঞ্জুর করে আদালত। কারণ হিসাবে জানানো হয় মাহি অন্তঃসত্ত্বা, তবে জামিন মেলেনি জেলে পাঠানো হয় অভিনেত্রীকে। এরপরই প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। জেলে পাঠানোর তিন ঘন্টা পর আচমকাই সিদ্ধান্ত বদল। সন্ধ্যার ৬টা নাগাদ মহানগর হাকিম মো. ইকবাল হোসেন মাহির জামিন মঞ্জুর করে। প্রসঙ্গত, একই বিচারক দুপুরে মাহিকে জেলে পাঠিয়েছিলেন!

প্রেগন্যান্সির একদম শেষ পর্যায়ে রয়েছেন মাহি। শুরুতে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হলে প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন নেটিজেনদের একটা বড় অংশ। খোলাখুলি এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন ওপার বাংলার সবচেয়ে বিতর্কিত অভিনেত্রী পরীমনি। ফেসবুকে নায়িকা লেখেন, ‘এইটা কোনও কথা না ভাই। চুপ করে থাকতে থাকতে কখন যে বোবা হয়ে যাবো আমরা ….. দেখছেন মাহীর দিকে। বুক কাঁপলো না আপনাদের! একজন অন্তঃসত্ত্বার এই শারীরিক ও মানসিক ধকলের দায়ভার কে নিচ্ছে তাহলে! আইনের এই খেলা বন্ধ হোক। মাহীকে অনতিবিলম্বে মুক্তি দেয়া হোক।’

পরীমনির পাশাপাশি মাহির প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তাঁর গ্রেফতারির প্রতিবাদ জানান জয়া আহসানও। তিনি ফেসবুকে লেখেন, ‘অভিনেত্রী মাহিয়া মাহিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রেপ্তার করা হয়েছে। মাত্রই খবরে পড়লাম, পুলিশ তাকে রিমান্ডে আনার আবেদন করলেও আদালত তা মঞ্জুর করেননি। মাহি জনপ্রিয় অভিনেত্রী, কিন্তু দেশের সব নাগরিকের মতো তিনিও আইনের অধীন। তবে এই কথাটা বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার, তিনি এখন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা….’। 

তবে সব সহকর্মীরাই যে মাহির পাশে দাঁড়িয়েছেন এমনটা নয়। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি এ ব্যাপারে একদম চুপ। শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ আক্তার স্পষ্ট জানান বলেছেন ‘পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। তাই এটা রাষ্ট্রীয় ইস্যু। এই ইস্যু নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না।পুলিশের কাছে হয়তো মনে হয়েছে এটা সঠিক।’

কেন গ্রেফতার মাহি?

ফেসবুক লাইভে এসে মাহিয়া মাহি ও তাঁর স্বামী রাকিব সরকার মানহানিকর তথ্য প্রচার করেছেন, কুৎসা রটিয়ে আইনশৃঙ্খলা অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করেছেন, এমন অভিযোগে পুলিশ শুক্রবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে। সেই মামলাতেই গ্রেফতার হন মাহি। দেশে ফিরলেই গ্রেফতার করা হতে পারে তাঁকে, শুক্রবার রাতেই এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন অভিনেত্রী। এদিন মাহি দেশে ফিরলেও বাংলাদেশে ফেরেননি তাঁর স্বামী রাকিব। 

শুক্রবার ভোরে গাজীপুরে রকিবের গাড়ির শো-রুমে ভাঙচুর হয়। ওই জমি নিয়ে রাকিবের সঙ্গে স্থানীয় আরেক পক্ষের বিরোধ দীর্ঘদিনের। তবে ফেসবুক লাইভে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে পক্ষপাতের অভিযোগ আনেন মাহি। মাহির স্বামী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণবিষয়ক উপ কমিটির সদস্য। বিয়ের পর স্বামীর পদচিহ্ন অনুসরণ করে রাজনীতিতে যোগ দেন মাহি। এই মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহি।

নবাব এলএলবি, রোমিও,অগ্নির মতো ইন্দো-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনায় তৈরি ছবিতে অভিনয় করেছেন মাহিয়া মাহি। তাই এপার বাংলারও যথেষ্ট পরিচিত মুখ তিনি। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাকিবের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে সারেন মাহি।

 

এই খবর ইউনিকাস প্রতিস্থাপন করেনি তাই এর কোনো কৃতিত্ব অথবা দ্বায়িত্ব ইউনিকাস এর নয়। দয়া করে এর উৎস টি খুঁটিয়ে দেখুন। এই পোস্ট টি আপত্তিকর হলে, তা অবিলম্বে মুছে ফেলতে আমাদের সত্বর যোগাযোগ করুন।