WB Districts

মমতার বৈঠকে যোগ না দেওয়া নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য তৃণমূল বিধায়ক

সামনে পঞ্চায়েত ভোট তার আগে রণকৌশল ঠিক করতে আজ কলকাতার কালীঘাটে বৈঠক ডেকেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেই বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের তৃণমূল বিধায়ক আব্দুল করিম চৌধুরী। বৈঠকে যোগ না দেওয়ার কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে দলের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিধায়ক। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বৈঠকে দলীয় নেতৃত্বের কথা শুনতে হয়। বলার কোনও জায়গা নেই। তাই এই বৈঠকে তিনি যোগ দিচ্ছেন না। প্রসঙ্গত, পঞ্চায়েত ভোটের আগে বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। তারই মধ্যে তৃণমূল বিধায়কের এরকম মন্তব্যে অস্বস্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস।

প্রসঙ্গত, উত্তর দিনাজপুরের তৃণমূল জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়ালের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই করিমের দ্বন্দ্ব রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে দুই নেতার মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি সেই দ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল ইসলামপুরের মাটিকুণ্ডায়। এক সিভিক ভলেন্টিয়ার খুনের ঘটনায় কানাইয়া এবং তার ঘনিষ্ঠদের পদ থেকে সরানোর দাবি তুলেছিলেন করিম। এই দাবিতে অনুগামীদের নিয়ে রাস্তায় বিক্ষোভ করেন তিনি। এমনকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ রাজ্য নেত্রীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই সময় তিনি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এমনকী নিজেকে বিদ্রোহী বলেও দাবি করেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে জেলা নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব মেটাতে গত বুধবার রায়গঞ্জে তৃণমূলের কোর কমিটির বৈঠক ডাকা হয়। সেই বৈঠকে বিভিন্ন শাখা সংগঠনের নেতৃত্বের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিধায়করা। যদিও করিম সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। ওই বৈঠকে তৃণমূলের শিক্ষা কর্মী সংগঠনের সভাপতিকেও ডাকা হয়নি। যদিও করিমের বক্তব্য ছিল, কানাইয়ার সঙ্গে তিনি সমঝোতা করতে চান না। ব্লক তৃণমূল সভাপতি জাকির হোসেন এবং কানাইয়ার মদতে ইসলামপুরে খুন, মারপিট, সন্ত্রাস দলের দ্বন্দ্ব লেগে রয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ ছিল। তারপরেও দল থেকে তাঁদের সরানো না নিয়ে করিম দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। যদিও পালটা কানাইয়া বিধায়কের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলেছিলেন।

মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে করিম বলেন, ‘পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে দলীয় নেতৃত্ব কথা বলে থাকেন। তাঁদের কথা শুনতে হয়। সেখানে বলার কোনও জায়গা নেই। তাই বৈঠকে যোগ দিচ্ছি না।’ প্রসঙ্গত, এর আগের দিনই বাঁকুড়ার এক তৃণমূল নেতা দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে চাকরি বিক্রির অভিযোগ তুলেছিলেন। এছাড়াও পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরে সম্প্রতি প্রকট হয়েছে মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে দলের এক নেতার দ্বন্দ্ব।

————– সমাপ্ত ————–

এই খবর ইউনিকাস প্রতিস্থাপন করেনি তাই এর কোনো কৃতিত্ব অথবা দ্বায়িত্ব ইউনিকাস এর নয়। দয়া করে এর উৎস টি খুঁটিয়ে দেখুন। এই পোস্ট টি আপত্তিকর হলে, তা অবিলম্বে মুছে ফেলতে আমাদের সত্বর যোগাযোগ করুন।